টাইম মেশিন নিয়ে শেষ কথা

0
179

গত পর্বে আমরা টাইম মেশিন সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলাম | একটি মিউওন কিভাবে পৃথিবীপৃষ্ঠে আসে সে সম্পর্কেও আমরা গত পর্বে জেনেছিলাম | আমরা ওয়ার্মহোল ও টাইম মেশিন সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলব |

ওয়ার্মহোল কল্পনা করা কঠিন | আমাদের বোঝার স্বার্থে আমরা যদি ত্রিমাত্রিক জগত থেকে দ্বিমাত্রিক জগত হিসেবে চিন্তা করিতাহলে বিষয়টি বোঝা সহজ হয়ে যায় | প্রত্যেকটি ওয়ার্মহোলের দুটি করে মুখ থাকে,এই ওয়ার্মহোলের একটি মুখ পৃথিবী | মুক্তি 26 আলোকবর্ষ অর্থাৎ সেকেন্ডে 3 লক্ষ কিলোমিটার বেগে আলো এক বছরে যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে সেটি হচ্ছে এক আলোকবর্ষ দূরে ভেগা নক্ষত্রের কাছাকাছি | ওয়ার্ম হোল ব্যবহার না করে কেউ যদি পৃথিবী থেকে ভেগা নক্ষত্রের যেতে চাই তাহলেআর 26 আলোকবর্ষ পার করে যেতে হবে |কিন্তু সে যদি ওয়ার্মহোলের ভেতরের টানেলটি দিয়ে যেতে চাই এ হয়তো এক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যাবে | এই টানেলটা হাইপার স্পেস ব্যবহার করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের দুটি ভিন্ন জায়গার মধ্যে একই শর্টকাট  তৈরি করে দিয়েছে |

কেউ যেন না মনে করে ওয়ার্মহোলের এই বিষয়গুলো গাল গল্প| আইন স্টাইনের সূত্রের সমাধান করে 1916 সালে প্রথমে এর অস্তিত্বে অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে | আইনস্টাইন,রোজেন, হুইলার এর মত বড় বড় বিজ্ঞানীরা এর ওপর গবেষণা করেছেন | এই মেশিন তৈরি করতে এরকম একটা ওয়ার্মহোল তৈরি করতে হবে | এই মুহূর্তে ওয়ার্ম হোলের অস্তিত্ব হয়তো কাগজ-কলমে কিন্তু ভবিষ্যতে যখন বিজ্ঞানের উন্নতি লাগামছাড়া উন্নতি হয়ে যাবে তখন এরকম হল অনেক গুলোই তৈরি করা সম্ভব | মানুষ যখন সেরকম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে তখন তারা একটি টাইম মেশিন তৈরি করা চিন্তা করতে পারবে |

এটা তৈরি করার জন্য প্রথম দরকার  হবে একটি মহাকা শযানের তারপর একটি ওয়ার্মহোল তৈরি করে তার একটি মুখ রাখতে হবেমহাকাশযানের ভিতরে,অন্য মুক্তি থাকবে ধরা যাক কারো ঘরের বৈঠক খানায়| টাইম মেশিন তৈরি করার প্রস্তুতি শেষ এখন তা ব্যবহার করা সম্পর্কে জানতে হবে|বিষয়টি বোঝার জন্য আমরা চিন্তা করে নেই যে ঘরের বৈঠকখানায় একটি লোক বসে আছে,তার নাম মনে করি কামাল|আর যে মহাকাশযানে বসে আছে তার নাম আকাশ | এখন বেশি টাইম মেশিন চালু করার পরকামাল ও আকাশ কে কি বলে:

কামাল  : আমি বসে আছি আমার বৈঠকখানায়|ঘরের বাইরে মহাকাশযানটি দাঁড়িয়ে আছে|সেখানে আছে আকাশ | সত্যি কথা বলতে কি আমি আমার বৈঠকখানার ভেতরে ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে মহাকাশযানের ভেতর দেখতে পাচ্ছি | এটি কয়েক সেন্টিমিটার লম্বা আমি এর ভিতর দিয়ে আকাশের হাত ধরতে পারছি | আমি আর আকাশ ঠিক করেছি মহাকা শযানটি যখন রওনা দেবেতখন আমরা একে অপরের হাত ধরে রাখবো |

আকাশ:  আমি আর কামাল একে অপরের হাত ধরে রেখেছি | আজকের তিন হাজার সালের জানুয়ারি মাসের 1 তারিখ | ঠিক সকাল 9 টার সময় মহাকাশ যানটি রওনা দেবে |আমি ঠিক করেছি প্রচন্ড গতিবেগ আলোর গতিবেগ এর কাছাকাছি 6 ঘন্টা ছুটে যাব | তারপর পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে থাকবো পরে 6 ঘন্টা|অর্থাৎ সকাল 9 টায় রওনা দিয়ে ঠিক রাত 9 টার সময় পৃথিবীতে ফেরত আসবে

কামাল: এখন বাজে ঠিক নয়টা মহাকাশ যানটি আকাশকে নিয়ে ছুটে যেতে শুরু করেছে|যেহেতু ওয়ার্ম হোল টি মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার লম্বা আমি এখনো আকাশকে ধরে রাখতে পারছি কোন সমস্যা হচ্ছে না|সত্যি কথা বলতে কি আমি আকাশকে দেখতেও পারছি | আকাশ মহাকাশ ভ্রমণ শেষ করা না পর্যন্ত আমি তার হাত ধরে রাখবো|অর্থাৎ 12 ঘণ্টা তার হাত ধরে থাকতে হবে |

আকাশ : আমি 6 ঘন্টা আলোর গতিবেগ আমার মহাকাশযানে ছুটে গিয়েছি|তারপর দিক পরিবর্তন করে 6 ঘন্টা ভ্রমণ করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছি | আমি যখন রওনা দিয়েছিলাম তখন মহাকাশযানের ঘড়িতে বেধেছিল ঠিক নয় টা,আমি যখন ফিরে এসেছি তখন বাজে ঠিক রাত 9:00 |

কামাল: আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যেমহাকাশ যানের ঘড়িতে ঠিক রাত নয়টা বাজে |12 ঘন্টা টানা আমি তার হাত ধরে রেখেছিলাম | এখন হাতটা ছেড়ে দেই আমার ঘড়িতে বাজে রাত 9:00 | এতক্ষণ আমি ওয়ার্মহোল এর ভিতর দিয়ে আকাশকে দেখছিলাম | এখন তার হাত ছেড়ে দিয়েছি | ঘড়িতে বাজে রাত 09:01 | জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি | কি আশ্চর্য  ?মহাকাশযানটি তো নেই ,গেল কোথায় ?

“আমার একটি খুব ভালো টেলিস্কোপ আছে,এটা দিয়ে মহাকাশে তাকিয়ে আমি অবাক হয়ে দেখলাম মহাকাশযানটি ছুটে যাচ্ছে !” তারপর অনেকদিন কেটে গেছে | শুধু দিন নয়,সপ্তাহ কেটেছে ,মাস কেটেছে ,এমনকি বছর কেটেছে |আমার বয়স 10 বছর বেড়েছে | চুল একটু পথ ধরেছে গায়ের রংটাও অনেক পরিবর্তন হয়েছে

ঠিক 10 বছর 3010 সালের জানুয়ারি মাসের 1 তারিখ হঠাৎ দেখি গর্জন করে আকাশের মহাকাশযানটি আমার বৈঠকখানায় নেমে এসেছে | দেখি মহাকাশ যানের ভেতর আকাশ একজনের হাত ধরে বসে আছে | আমার বয়স বেড়েছে 10 বছর আকাশের বয়স বেড়েছে মাত্র 12 ঘন্টা | আমি আকাশকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কার হাত ধরে আছো ? সে বলল, কেন তোমার ? আমি মহাকাশযানের ভেতর উঠে উঁকি দিয়ে দেখি আকাশ সত্যিই কার যেন হাত ধরে রয়েছে | মানুষটি আর কেউ নয় ,মানুষটি স্বয়ং আমি বছর আমি দশ বছর আগে আমি যেরকম ছিলাম |আমি ওয়ার্ম হোল এর ভেতর দিয়ে আমায় বৈঠকখানায় এসেছি | আমি আমার নিজেকে দেখছি |”10 বছর আগে আমি ফিরে গেছি আমার নিজের কাছে “

আমি জানি পুরো ব্যাপারটি একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বলে চালিয়ে দেওয়া যায় | কিন্তু এটা ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার এর মত পৃথিবীর সবথেকে মর্যাদাসম্পন্ন একটি জার্নালের প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের মূল বিষয় |এখানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বিষয়টি ঠিক এই ধরনের একটি বিষয়ের মত |আর এটা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে

বলাবাহুল্য যে এ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর পৃথিবীতে  হৈচৈ শুরু হয়েছে | বিজ্ঞানীরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন | এটি আসলে সম্ভব কিনা বা এটি সম্ভব করতে গেলে এর বিপরীত কিছু হবে কিনা সে নিয়ে  নানা ধরনের আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে | স্টিফেন হকিংও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন , তিনি বিশ্বাস করেন একটি ওয়ার্ম হোল ঠিক যখন একটি টাইম মেশিন হিসেবে কাজ করতে শুরু করে এরকম আবর্তনের কারণে এটি ধ্বংস হয়ে যায় | সেটি কি সত্যি,আর টাইম মেশিন তৈরি করা আদৌ কি সম্ভব কিনা এ বিষয়ে কেউ জানেন না |কোয়ান্টাম গ্রাভিটি সম্পর্কে পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা আলো আরো ভালো করে না জানা পর্যন্ত |

আমাদের সেই জন্য অপেক্ষা করতে হবে

লেখক: মেহেদী হাসান

Gmail: mehedi1720@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here