অ্যালোভেরা এর উপকারিতা ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক

0
353

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী আমাদের কাছে একটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ । অ্যালোভেরার বাংলা নাম ঘৃতকুমারী । সারা বিশ্বের মানুষ একে অ্যালোভেরা হিসেবে চিনে । এটি একটি কান্ড বিহীন রসালএবং শাসযুক্ত গাছ । এই গাছটি গড়ে ৬০-১০০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং পাতা ১০-২০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার দুই পাশে কাঁটা থাকে এবং পাতা চেপ্টাকৃতি গাছের ফুল ও অনেক দর্শনীয়ও।অ্যালোভেরার আদিবাস উত্তর আফ্রিকা এবং কেনারিদিপুঞ্জে ক্যারলিনিয়াস সর্বপ্রথম অ্যালোভেরার নামকরণ করেন। বহু বছর ধরে মানুষ অ্যালোভেরাকে ঔষধি গাছ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।

অ্যালোভেরার পাতার মধ্য যে স্বচ্ছ জেলির মত বস্তু পাওয়া যায় তাকে আমরা জেল বলে জানি ।পাতার ঠিক নিচেই থাকে হলুদ রঙের ল্যাটিস এবং তার নিচেই এই জেল  পাওয়া যায় । বহু গুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজগুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন্‌,সোডিয়াম,পটাশিয়া্‌ ম্যাঙ্গানিজ, জিংক্‌ , ফলিক এসিড ,অ্যামিনো এসিড ও ভিটামিন এ , বি৬, বি২ ইত্যাদি । অ্যালোভেরা জেল রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরার জুস পান করে থাকেন।

বর্তমানে সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী উপাদান গুলির মধ্যে একটি অন্যতম সুপরিচিত নাম হল অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরা রূপচর্চায় ব্যবহারের পাশাপাশি এটি শরীরের নানা রোগ কমাতে সাহায্য করে । অ্যালোভেরার গুনাগুন সর্বত্র সুপরিচিত। শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত, হেমন্ত, শীত, বসন্ত সব ঋতুতেই অ্যালোভেরার ব্যবহার করা যায় এবং এটি সহজে পাওয়া যায়।

অ্যালোভেরার জেল এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি -ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলো ছোটখাটো ব্যথা ,পুড়ে যাওয়া, কেটে যাওয়ার মতন সমস্যা গুলিতে খুব ভালোভাবে কাজ করে । অ্যালোভেরার পাতার পাশাপাশি অ্যালোভেরার জেল কিংবা অ্যালোভেরার জুস আমাদের শরীরের নানা রোগব্যাধি কমাতে সাহায্য করে। মূলতঃ অ্যালোভেরা জুসকে আমরা শরীরের একটা উপকারী হেলথ ড্রিঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। অ্যালোভেরার গাছ বাড়ির বারান্দায় কিংবা ছাদে সহজেই তৈরি করা যেতে পারে। অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক ঔষধী যে কোন রকম রোগকে কমিয়ে শরীরকে ভালো করে তোলে।

সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় অ্যালোভেরার ব্যবহার সুদীর্ঘকাল ধরে চলছে । অ্যালোভেরা গাছ যেকোনো পরিবেশেই তৈরি হতে পারে । এটি অনেকটা ক্যাকটাসের মতো দেখতে কিন্তু গায়ে বড় কাঁটা থাকে না। এটি সবুজ রঙের হয় এবং এর ভেতরে এক ধরনের থকথকে সাদা রঙের জেল পাওয়া য্তহকে। যেটি একটি ম্যাজিক উপাদান। পৃথিবীতে প্রায় আড়াইশো রকমের অ্যালোভেরা জন্মায়। তার মধ্যে দু’রকমের অ্যালোভেরা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। অ্যালোভেরার রস পেট ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি বহু রোগের জীবাণু নাশ করে থাকে। কারখানায় ও ল্যাবরেটরীতে তৈরি প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের তুলনায় যদি সরাসরি গাছ থেকে অ্যালোভেরা পাতা কেটে নিয়ে ব্যবহার করা হয় সেটি বেশি কার্যকরী। গোটা বিশ্বজুড়ে অ্যালোভেরা গাছের রস এবং বিক্রি হয়। অ্যালোভেরা জেল থেকে বিপুল পরিমাণ অ্যামিনো এসিড পাওয়া যায় যা শরীরের জন্য উপকারী। এছাড়াও সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী উপাদান হিসেবে ও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা হয়। কখনও কখনও ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও এটি কিংবা ফেসওয়াশ বা শাবানের মধ্য দিয়েও ব্যবহার করা হয়। মূলত দেহের যে অংশে দাগছোপ কিংবা সানবার্ন রয়েছে সেই সমস্ত অংশে দাগ কমাতে অ্যালোভেরার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আজকে জানবো অ্যালোভেরার বিভিন্ন উপকারিতা দিক গুলি। যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমস্যার সমাধান করে চলছে অ্যালোভেরা।

অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ-

হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন কাজে অ্যালোভেরা গাছের ব্যবহার হয়ে আসছে। অ্যালোভেরা গাছ মূলতঃ দেশের পশ্চিমে অধিক জনপ্রিয়। বিভিন্ন প্রসাধনী, পণ্য, ওষুধ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা ব্যবহার হয়ে আসছে। এই উদ্ভিদ থেকে ত্বকের যেকোনো ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গিয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ যেমন ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধির মত সমস্যাগুলির ক্ষেত্রেও অ্যালোভেরার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। অ্যালোভেরা বর্তমানে খাবার, প্রসাধনী দ্রব্য , খাদ্য পরিপূরক, বিভিন্ন রূপে ব্যবহার হয়ে থাকে। অ্যালোভেরার সর্বাধিক বৈশিষ্ট্য হলো ত্বকের বিভিন্ন ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে। এছাড়াও অ্যালোভেরা শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে। এরমধ্যে রয়েছে ৭৫ টির বেশি শক্তিশালী উপাদান। যার মধ্যে ভিটামিন, খনি্জ, স্যালিসিলিক, এনজাইম,‌ অ্যামিনো এসিড এবং শর্করা রয়েছে। পৃথিবীতে যত রকমের পুষ্টিগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ রয়েছে অ্যালোভেরা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে এটি শরীরের বিভিন্ন বেদনা কিংবা প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।এটি বিভিন্ন প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের অনাক্রম্যতাকে জোরদার করে এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা করে সমাধান করে। এর পাশাপাশি অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  জেনে নিন আমাদের ত্বক, চুল এবং স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা কিভাবে উপকার করে?

ত্বকের জন্য অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ-

 

প্রাচীন কাল থেকে ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি ত্বককে সুন্দর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করার ফলে আমাদের পেট পরিষ্কার থাকে, যার ফলে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারকারীদের ত্বকে কোন রকম চর্মরোগ, মেচত, ব্রণের সমস্যা থাকে না। তবে বাজার থেকে প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেল না কিনে সরাসরি অ্যালোভেরা গাছের পাতা থেকে জেল নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। জেনে নিন ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার উপকারি দিকগুলিঃ-

অ্যালোভেরার মধ্যে জলের আধিক্য বেশি থাকায় এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।মুলত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে  এটির মধ্যে কোন চটচটে ভাব থাকে না। এটি সরাসরি ত্বকে মিশে গিয়ে ত্বককে ভেতর থেকে দাগছোপহীন এবং উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে। যাদের তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা কিংবা ব্রণের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য অ্যালোভেরা জেল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও শীতকালে  যাদের শুষ্ক ত্বকের সমস্যা রয়েছে তাদের এই সমস্যা দূর করতে অ্যালোভেরা মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। দৈনিক অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ত্বক তার আর্দ্রতা ফিরে পায় এবং ভেতর থেকে উঠে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

কিভাবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করবেনঃ-

অ্যালোভেরা গাছের সবুজ অংশের ভেতর থেকে সাদা অংশের যে জেল পাওয়া যায় সেটি বের করে নিন। এবার এটি ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে রস তৈরি করুন। তবে এটি সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করার আগে কানের পিছনে অল্প লাগিয়ে দেখে নিন কোন রকম এলার্জি হচ্ছে কিনা। যদি কোন রকম সমস্যা না হয় সরাসরি  যে কোন সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে এটি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু যদি কোন রকম  অ্যালার্জি দেখতে পান সে ক্ষেত্রে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। এবং এক ঘণ্টা লাগিয়ে রাখার পর মুখটা যদি তৈলাক্ত ত্বক হয় উষ্ণ গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। আর যদি শুষ্ক ত্বক হয়  সেক্ষেত্রে সাধারণ জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিন।

চুলের জন্য অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ-

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অ্যালোভেরা। এটি চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে এবং চুলের কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলে। এছাড়াও চুলে এবং মাথার ত্বকে কোনো রকমের চুলকানি কিংবা ঘায়ের সৃষ্টি হলে সেটি কমাতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরার পুষ্টি চুল এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটিয়ে  চুলকে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল করে তোলে। প্রাকৃতিক উপাদান অ্যালোভেরার বাজারজাতও যে কোনো ধরনের চুলের প্রসাধনী কে ছাড়িয়ে যেতে পারে। অ্যালোভেরা মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন কে ত্বরান্বিত করে । যার ফলে চুলের  শিকড়গুলির স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। যার ফলে চুলের গোড়ায় শক্তি প্রদান করা হয়ে থাকে এবং চুল গোড়া থেকে শক্তিশালী হয়। দৈনিক আমাদের চুল পরিচর্যার তালিকায় অ্যালোভেরা রাখা যায় সে ক্ষেত্রে চুল ভেতর এবং বাইরে থেকে পুষ্টিকর হয়ে উঠবে। এক নজরে দেখে নিন চুলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিভাবে এলোভেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে ?

চুল বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরার ব্যবহারঃ-

প্রাচীন যুগ থেকে চুল পরিচর্যায় অ্যালোভেরার ব্যবহার হয়ে আসছে। এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলি চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে যার ফলে চুল ছেঁড়া  কম হতে থাকে এবং চুলের বৃদ্ধি দারুণভাবে ঘটতে থাকে। এটি চুলকে ঘন এবং সুন্দর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও চুলের পি এইচ এর ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুল পড়া কমানোর পাশাপাশি নতুন চুল গজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেনঃ-

অ্যালোভেরা দুটো পাতা থেকে সম্পূর্ণ জেলের অংশ বের করে নিন। এবার এই জেল মাথার স্ক্যাল্পে নিয়ে এবং চুলে লাগিয়ে দুই হাত দিয়ে ভালো করে সারা মাথায় মাসাজ করে নিন। এটি সপ্তাহে অন্তত 3 দিন করুন। দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করছে।

খুশকি দূরীকরণে অ্যালোভেরার ভূমিকাঃ-

মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে উঠলে সেখান থেকে মরা কোষ গুলি উঠতে দেখা যায়। এগুলোকে বলা হয় খুশকি। মূলতঃ ত্বক অত্যাধিক শুষ্কতার কারণে খুশকির সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও যেকোনো ধরনের জীবানুর সংক্রমণ থেকেও এটি হতে পারে। তাই খুশকি দূর করে স্ক্যাল্পকে সমস্যা মুক্ত  রাখতে অ্যালোভেরার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালোভেরার মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান গুলি মাথার ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে এবং খুশকির সমস্যা সমাধান করে। এছাড়াও এটি চুলের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই খুশকি দূরীকরণে অ্যালোভেরার ভূমিকা গুরুত্বপূর।

কিভাবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করবেনঃ-

অ্যালোভেরার দুটো পাতা থেকে সম্পূর্ণ জেলা বের করে নিন। এবার জেলটির মধ্যে অর্ধেক লেবুর রস দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে রস তৈরি করে নিন। এবার এটি অল্প ভেজা চুলে লাগিয়ে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন। চুলটা উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে রাখুন। এরপর ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে একদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। এতে চুলের যে কোন সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি খুশকির সমস্যাও দূর হবে।

দাঁতের যত্নে অ্যালোভেরাঃ-

অ্যালোভেরার জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। দাঁতে কোনো ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ওজন হ্রাস করতে অ্যালোভেরাঃ-

ওজন কমাতে অ্যালোভেরা জুস বেশ কার্যকরী। ক্রনিক প্রদাহের কারণে শরীরে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেনটরি উপাদান এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে থাকে। পুষ্টিবিদগন এই সকল কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

হজম শক্তি বাড়াতে অ্যালোভেরাঃ-

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি নেই। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করে, যা হজমশক্তি বাড়িয়ে থাকে। অ্যালোভেরা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধেও অনেক ভালো কাজ করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে অ্যালোভেরাঃ-

অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিস এর শুরুর দিকে নিয়মিত এর জুস খেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

চর্মরোগ ও ক্ষত সারাতে অ্যালোভেরাঃ-

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ঔষধির ও কাজ করে থাকে বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায় এই অ্যালোভেরার জুস। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এই অ্যালোভেরা।

উপকারী অ্যালোভেরার কিছু মারাত্মক ক্ষতিকর দিকঃ-

বাংলায় ‘ঘৃতকুমারী’ আর ইংরেজিতে অ্যালোভেরা নামে পরিচিত এই উদ্ভিদের অনেক উপকারিতা। যার ব্যবহার বহু যুগ আগে থেকেই। অনেক গুণের কারণে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে মানুষ পেয়েছেন নানা রোগের সমাধান। কিন্তু এর রয়েছে কিছু ক্ষতিকর দিকও যা অনেকেই জানে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে এই উদ্ভিদটি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব অনেকসাল।

চিকিৎসকদের মতে অ্যালোভেরা জেল তখনই নিরাপদ যখন এটি ওষুধ হিসেবে চামড়ায় প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক উপায় এ যখন অ্যালোভেরার হলদে যে রসালো পদার্থ বের করা হয় তার সঙ্গে ‘অ্যালো লেটেক্স’ নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই লেটেক্স অ্যালোভেরার পাতার মধ্যে থাকে।যা যদি খাওয়া হয় তবে এটি শরীরের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। পেট ব্যথা,র‍্যাশসহ নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আর ল্যাটেক্স এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ডায়রিয়া, কিডনির সমস্য, প্রস্রাবে রক্ত , পটা্‌শিয়ামের ঘাটতি , পেশী দুর্বলতা, ওজন হ্রাস এবং হার্ট অ্যাটাকের মত সমস্যা হতে পারে।

অ্যালোভেরার সবুজ পাতাই সেক্ষেত্রে নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। পাতা একটু বেশি পুরাতন হয়ে হলদে ভাব হয়ে গেলে তা বর্জন করা উচিত। অ্যালোভেরা গ্রহণ করার আগে অবশ্যই আপনার শরীরে কি কি ওষুধ চলছে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। কেননা  এমন কিছু ওষুধ আছে যেগুলি গ্রহণ করার সময় আপনি অ্যালোভেরা গ্রহণ করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে উল্টে উপকার এর বদলে অপকার হবে। তাই অ্যালোভেরা যদি খেতে চান সেক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহন করুন। আপনার ডাক্তার ওষুধের তালিকা দেখে তারপর আপনার কে অ্যালোভেরা খাওয়ার পরামর্শ দেবেন। নিজে থেকে কোন কিছু না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলুন।

শেষ কথাঃ-

অ্যালোভেরা একটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি কারী উপাদান হিসেবে প্রাচীন যুগ থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে আমরা বহু ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার ব্যবহার করে থাকি। এছাড়া বেশ কয়েকটি কোম্পানির অ্যালোভেরা জেল আমাদের মধ্যে খুবই পরিচিত। তবে আমরা অধিকাংশ ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে থাকি। এর পাশাপাশি চুল এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় অ্যালোভেরা জেল এর ব্যবহার কতটা কার্যকরী তা হয়তো আমাদের ধারণা ছিল না। তবে বর্তমানে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। অ্যালোভেরা কম ক্যালরিযুক্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি উপাদান। এটির গুনাগুন সম্পর্কে আমরা আজকের নিবন্ধে জেনেছি এবং দৈনন্দিন আমাদের খাদ্য এবং স্বাস্থ্যের তালিকায় অ্যালোভেরা কিভাবে ব্যবহার করব তা জেনেছি। এর পাশাপাশি অ্যালোভেরা আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কি কি সাহায্য করে তাও জেনেছি। এবার তাহলে নির্দ্বিধায় কোন রকম চিন্তা ছাড়াই অ্যালোভেরার ব্যবহার শুরু করুন। তবে অবশ্যই অ্যালোভেরা খাওয়ার আগে ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ করে নেবেন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সকলকে ভালো রাখুন পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের পেজে চোখ রাখুন।