ওজন কমানোর সহজ উপায়

0
223

যারা দেহের বাড়তি ওজন নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন ওজন কমানোর উপায় খুঁজছেন তাদের জন্য এ ব্লগটি ভীষণ কার্যকরী হবে। এই ব্লগটিতে আপনারা পাবেন সবচেয়ে কার্যকরী উপায় দেহের ওজন কমানোর। দেহের অতিরিক্ত ওজন শুধু দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করেনা, এটি মানসিক সমস্যা সৃষ্টির ও একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে আপনার জীবনে। শরীরের ওজন বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকে দুশ্চিন্তায় খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন এবং অনেকে না খেয়ে শরীর শুকানোর চেষ্টা করছেন আবার কেউ বা কয়েক দিন ব্যায়াম করে বন্ধ করে দিয়েছেন। এভাবে অনিয়মের কারণে শরীরে নানা রকম অসুখ হতে পারে এবং আরো মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিচে সেরা ও ওজন কমানোর সহজ উপায় দেয়া হলো।

নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ

দ্রুত ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে হালকা ব্যায়াম করুন অথবা দৌড়ান অথবা হাঁটাহাঁটি করুন। সকালবেলা কম করে হলেও নিয়ম করে আধা ঘণ্টা ব্যায়াম করুন অথবা আধাঘন্টা হাটুন। ব্যায়াম শরীরকে যেমন ফিট রাখে তেমনি মানসিক শান্তি ও প্রদান করে।

লেবু জলের সাহায্যে ওজন কমানোর উপায়ঃ

ওজন কমানোর জন্য লেবু জলের জুড়ি মেলা ভার। লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড যা দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট কমিয়ে দেয় ফলে দেহের ওজন কমে যায়। সকালবেলা ব্যায়াম করা হয়ে গেলে ২০ থেকে ২৫ মিনিট বিশ্রাম করুন। এরপর এক গ্লাস হালকা গরম জল নিন। এবার একটি পাতি লেবুর রস এই জলের সাথে মিশিয়ে নিন। এরপর এক চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে ভালো করে চামচ দিয়ে নেড়ে জলটা পান করুন প্রতিদিন নিয়ম করে লেবু জল পান করলে খুব দ্রুত ওজন কমবে।

ওজন কমাতে সকালের ব্রেকফাস্ট ডিম খানঃ

লেবু জল পান করার আধাঘণ্টা পর সকালের খাবার খাবেন। সকালের খাবার এ তেল জাতীয় খাবার এবং ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। মেনুতে অবশ্যই একটি ডিম রাখুন। মনে রাখবেন আপনি ডিমের সাদা অংশটি খাবেন। ডিমের কুসুম কোন ভাবে খাবেন না। ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রোটিন যা দেহে প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে দেহের অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়, ফলে দেহের ওজন কমে। অন্যদিকে ডিমের কুসুমে থাকে ফ্যাট যা দেহের চর্বি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সে জন্য ডিমের কুসুম ভুলেও খাবেন না যারা অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছেন।

খাবারের মেনু থেকে যে খাবার গুলো বাদ দিবেনঃ

ওজন কমানোর জন্য খাবারের মেনু থেকে অবশ্যই মসলাজাতীয় এবং চর্বিজাতীয় খাবারগুলোকে বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত মসলা এবং চর্বি জাতীয় খাবার দেহের চর্বি বৃদ্ধি করে এবং দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে। সুতরাং অতিরিক্ত তেল, মসলা এবং চর্বি জাতীয় খাবার যেমন দুধ, ঘি, আইসক্রিম, মাখন ইত্যাদি খাবার একদম এড়িয়ে চলুন।

যে খাবারগুলো মেনুতে যোগ করবেনঃ

ওজন কমানোর জন্য খাবারের মেনুতে রাখুন অত্যধিক শাক-সবজি। চর্বিহীন মাংস, সয়াবিন, ছোট মাছ ইত্যাদি প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খান। খাবারের মেনুতে অবশ্যই শসা গাজর টমেটো ইত্যাদি দিয়ে তৈরি স্যালাড রাখুন।

গ্রিন টির সাহায্যে ওজন কমানোর উপায়ঃ

ওজন কমাতে গ্রিন টি’র জুড়ি মেলা ভার। গ্রিন টি ওজন কমাতে টনিকের মতো কাজ করে। গ্রিন টি তে থাকে একটি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন আউট করে এবং ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। স্বভাবতই খাওয়া কমে গেলে এবং দেহ থেকে অতিরিক্ত ফ্যাট কমে গেলে ওজন কমাতে বাধ্য। তবে গ্রিন টি কখনোই চিনি দিয়ে তৈরি করবেন না।

ওজন কমাতে প্রতিদিন ফল খানঃ

ওজন কমাতে ফল এর ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন ধরনের টক জাতীয় ফল যেমন আঙ্গুর, আপেল, কমলা লেবু , পেয়ারা ইত্যাদি ফলে থাকে এসিড যা দেহের চর্বি কম করে। এর ফলে আপনার দেহের ওজন কমবে দ্রুত। এজন্য প্রতিদিন ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ফল বা এক গ্লাস ফলের জুস পান করুন।

রাতের বেলায় ভাত একদম নয়ঃ

ওজন কমাতে চাইলে রাতের বেলায় ভাত খাবেন না। ভাতের বদলে রুটি খান। ভাত দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সুতরাং রাতে বেলায় ভাতের বদলে দুই থেকে তিনটি রুটি খাবেন এবং বেশি করে শাকসবজি খাবেন।

সপ্তাহে একদিন উপোস থাকুনঃ

আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী যারা সপ্তাহে অন্তত একদিন দিনের বেলায় 8 থেকে 9 ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন বা উপোস থাকেন তাদের দেখে কখনোই মেদ জমতে পারে না। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ও উল্লেখ রয়েছে। এর মূল কারন হল আমরা যখন না খেয়ে থাকি তখন দেহে জমে থাকা চর্বি বার্ন আউট হয়ে দেহে শক্তি উৎপন্ন হয়। ফলে দেহে চর্বি জমে থাকতে পারে না এবং দেহের ওজন ও কমে যায়।

ওজন কমানোর জন্য নিয়ম করে ঘুমানঃ

ওজন কম করতে চাইলে অতিরিক্ত ঘুম বা কম চলবে না। কারণ অতিরিক্ত বা কম ঘুম হজম শক্তির উপর প্রভাব ফেলে। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ গুন পর্যন্ত বেড়ে যায়। রাতের বেলায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমান। কিন্তু দিনের বেলায় কখনোই ঘুমাবেন না। কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে দিনের বেলায় ওজন বাড়ার সম্ভাবনা ১০০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

শেষ কথাঃ

সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। পোস্টটি ভাল লাগলে ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করবেন লাইক করবেন। পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের পেজে চোখ রাখুন।