আপেল খাওয়ার উপকারিতা

0
125

আপেল একটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পরিচিতি পরিচিত ফল যা সব জায়গায় পাওয়া যায়। এটি রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর একটি ফল যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আপেলে আছে শর্করা, ভিটামিন, আঁশ, খনিজ লবণ, পেকটিন ও ম্যালিক এসিড। শর্করা প্রায় ৫০% আছে। ভিটামিন এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এবং এগুলোর উপস্থিতি আপেলের ছালে ও ছালের সাথে লাগানো মাংসল অংশেই বেশি। আপেলের ছালে মাংসল অংশের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ভিটামিন এ আছে। খনিজ লবণের মধ্যে আছে প্রচুর পটাশিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ। সোডিয়ামের পরিমাণ খুবই সামান্য। ফলটি একটু দামী হলেও সত্যি সত্যিই খুব উপকারী। চলুন এখন আপেলের গুনাগুন জেনে নেই।

 

হার্ট ভালো রাখে আপেলঃ

আপেল কমায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও। আপেলের লৌহ রক্তশূন্যতায় উপকারী। পেকটিন আঁশ ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। আরো আপেলে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানসমূহ, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

 

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকেঃ

আপেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। আপেল খেলে খাদ্যের চাহিদার সাথে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। ফলে মেদ জমে না এবং স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। আর প্রতিদিন গড়ে তিনটি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হয়।

 

দাঁত ভালো রাখে আপেলঃ

ভিটামিন সি দাঁতের মাড়ির জন্য উপকারী। আপেলের রস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ফলে দাঁত ভালো থাকে।

 

ত্বক ভালো থাকেঃ

ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। দুটোই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোর রক্ষাকবচ। স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির জন্য ভিটামিন এ দরকার। ত্বক মসৃণ রাখতেও আপেলের গুণাবলী বলে শেষ করা যায় না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন আপেল খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়।

হজম ক্ষমতা বাড়াতে আপেলঃ

 

আপেল শর্করা শক্তির উৎস। এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় পেটে ফলে হজম শক্তি বাড়ে।

বাতের ব্যথা দূর করতে আপেলঃ

 

আপেলের ম্যালিক এসিড শরীরের ইউরিক অ্যাসিড কে নিষ্ক্রিয় করে বাতের ব্যথা দূর করতে পারে। সুতরাং আপেল বাতের ব্যথার জন্যও উপকারী।

পানিশূন্যতা দূর করতে আপেলঃ

 

আপেলে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। ফলে আপেল খেলে তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতা দূর হয় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়ক হয়। আমাদের পানি শূন্যতা পূরণ করতে আপেলের জুড়ি নেই।

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ

আপেলে পেকটিন নামের একটি উপাদান থাকে। পেকটিন ইনসুলিনের পরিমাণ ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আপেল কোন অসুবিধা নয়।

 

রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে আপেলঃ

ভিটামিন সি এর প্রয়োজন আরও নানান জায়গায় যেমন- কোলাজেন তৈরিতে , ক্ষত শুকাতে , খাদ্যনালী থেকে লবণ শোষণ করতে। আপেলের প্রচুর গুণাগুণ থাকায় দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

 

হাড় শক্ত করতে আপেল এর ভূমিকাঃ

আপেলে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরন যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

 

 

আপেল খাওয়ার নিয়মঃ

আপেল খেতে হবে ভালোভাবে চিবিয়ে তাহলেই হজম শেষে এর সকল উপাদান নিতে পারবে শরীর। ভালোভাবে না চিবিয়ে টুকরো টুকরো আপেল গিলে ফেললে সেই টুকরা গলাতে পাকস্থলীকে প্রচুর বেগ পেতে হয়। তাই এতে পেট ব্যাথা পেট ব্যথা হতে পারে। আপেল চিবিয়ে খেলে দাঁতও পরিষ্কার হয়, টুথব্রাশ এর কাজ করে। খালি পেটে আপেল খাওয়া উচিত নয় তাহলে আপেলে থাকা এসিডের কারণে বদহজম হতে পারে। আর খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে আপেল।