কিশমিশের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

0
115

কিশমিশের সাথে সকলেই আমরা পরিচিত। কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিশমিশ হল আঙুর ফলের শুকনো রূপ। তাই কিশমিশকে শুকনো ফলের রাজাও বলা হয়। সোনালী-বাদামী রঙের চুপসানো ভাঁজ হওয়া ফলটি খুবিই শক্তিদায়ক। এটি তৈরি করা হয় সূর্যের তাপ অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে। তাপের ফ্রুক্টোজগুলো জমাট বেঁধে পরিণত হয় কিশমিশে । আর এভাবেই তৈরি করা হয় মিষ্টি স্বাদের কিশমিশ । মিষ্টি খাবারের স্বাদ এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কিশমিশ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পোলাও-কোরমা ও অন্যান্য অনেক খাবারে কিশমিশ ব্যবহার করা হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম কিশমিশে রয়েছে এনার্জি ৩০৪ কিলোক্যালরি , কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৬ মিলিগ্রাম , ডায়েটরি ফাইবার ১.১ গ্রাম , ফ্যাট ০.৩ গ্রাম , প্রোটিন ১.৮ গ্রাম , ক্যালসিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম, আয়রন ৭.৭ মিলিগ্রাম , পটাশিয়াম ৭৮ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ২০.৪ মিলিগ্রাম। এটি রক্তে শর্করার মাত্রায় ঝামেলা তৈরি করে না। এটি খেলে শরীরের রক্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এটি হৃদপিন্ডের জন্যও অনেক উপকারী। চলুন জেনে নেই কিশমিশের গুনাগুন সম্পর্কে।

 

দেহে শক্তি সরবরাহ করতেঃ

দুর্বলতা দূরীকরণে কিশমিশ এর জুড়ি নেয়। দেহে শক্তি সরবরাহ করতে অবদান অনেক বেশি রয়েছে। কিশমিশ এ রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ যা তাৎক্ষণিকভাবে দেহে এনার্জি সরবরাহ করে থাকে। তাই দুর্বলতার ক্ষেত্রে কিশমিশ খুবই উপকারী।

 

দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষাতেঃ

বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু এগুলোর পরিবর্তে বাচ্চাদের কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করলে তাদের দাঁতের সুরক্ষা হবে। আবার একই স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে বিপুল পরিমাণ উপকারও পাবে। চিনি থাকার পাশাপাশি কিশমিশ রয়েছে ওলিনোলিক এসিড যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়।

 

হাড়ের সুরক্ষাতেঃ

কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড় মজবুত করতে বেশ ভূমিকা পালন করে। কিশমিশে আরও রয়েছে বোরন নামক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস , যা হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে। বর্তমানে অনেক রোগী অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের এক ধরনের রোগ) এ আক্রান্ত হচ্ছেন। বোরন নামক খনিজ পদার্থের অভাবে এই রোগ হয়। কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বোরন যা অস্টিওপরোসিস রোগের প্রতিরোধক। সুতরাং পরিবারের সবাইকে কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করানো উচিত।

 

ইনফেকশন এর সম্ভাবনা দূরীকরণেঃ

কিশমিশের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফেমেটরি উপাদান। যা কাটা ছেঁড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার হাত থেকে দূরে রাখে।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ

কিশমিশের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের কোষ গুলোকে ফ্রিরেডিকেল ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন হওয়ায় বাধা প্রদান করে। কিশমিশে আরও রয়েছে ক্যাটেচিন, যা পলিফেনোলিক অ্যাসিড। এটি ক্যান্সারমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকলে কোলোরেক্টারাল ক্যানসার ঝুঁকি কমে যায়। এক টেবিল চামচ কিশমিশে ১ গ্রাম পরিমাণ আঁশ থাকে। সুতরাং কিশমিশের আঁশ ক্যান্সারের ঝুঁকি একেবারে কমিয়ে দেয়।

 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেঃ

কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, যা আমাদের পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এর সমস্যা দূর করে।

 

রক্তশূন্যতা দূর করতেঃ

রক্ত শূন্যতার কারণে অবসাদ,শারীরিক দুর্বলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি বিষণ্ণতাও দেখা দিতে পারে। কিশমিশে আছে প্রচুর পরিমাণে লৌহ উপাদান , যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

 

জ্বর নিরাময় করতেঃ

কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়ারোধি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ফলে এটা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জ্বর নিরাময় করতে সাহায্য করে।

 

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিকরনেঃ

রক্তে ভিটামিন এ, এ-বিটাক্যারোটিন এবং এ-ক্যারোটিনয়েড থাকে। কিশমিশ এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। যা চোখের ফ্রি-রেডিকেল দূর করতে সক্ষম। কিশমিশ খেলে শরীরে সহজে বয়সের ছাপ পড়ে না। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং চোখে ছানি পড়ে না। পাশাপাশি বেশি শক্তি হ্রাস পায় না। কিশমিশ চোখের জন্য খুব উপকারী।

 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেঃ

কিশমিশ শুধুমাত্র রক্তের মধ্যে থাকা বিষো উপাদান কমায় তাই না বরং রক্তচাপও কমায়। কিশমিশ এর প্রধান উপাদান পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। শরীরে থাকা উচ্চমাত্রার সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ার প্রধান কারণ। কিশমিশ শরীরের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।

 

অ্যান্টি কোলেস্ট্ররেল উপাদানেঃ

কিশমিশে কোন কোলেস্টেরল নাই এটাই বড় কথা না। বরং কিশমিশে আছে অ্যান্টি কোলেস্টেরল এর উপাদান যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলসমূহকে হ্রাস করতে সাহায্য করে। কিশমিশ দ্রবণীয় আঁশ লিভার থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে। এক কাপ কিশমিশ এ আছে ৪ গ্রাম পরিমাণ দ্রবণীয় আঁশ।পলিফেনল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও কোলেস্টেরল শোষণকারী এনজাইমকে নিয়ন্ত্রণ করে।

 

অনিদ্রাঃ

যাদের ঠিকমতো ঘুম আসে না তাদের জন্য কিশমিশ অনেক উপকারী। কারণ কিশমিশের মধ্যে রয়েছে প্রচুর আয়রন যা মানুষের অনিদ্রার চিকিৎসায় বিশেষভাবে উপকারী। তাই আজ থেকে কিশমিশ খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন অনেক উপকার পাবেন।

 

 

এসিডিটি কমাতেঃ

রক্তে অধিকমাত্রায় এসিডিটি বা টক্সিসিটি উপাদান থাকলে তাকে বলা হয় এসিডোসিস। এসিডোসিস এর কারণে বাত,চর্মরোগ, হৃদরোগ ও ক্যান্সার হতে পারে। কিশমিশ রক্তের এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।

 

পরিপাকতন্ত্রের উপকারিতায়ঃ

কিশমিশ কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত খেলে হজম শক্তি ভালো থাকে এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল পথ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের কিশমিশ করে দেয়।

 

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষা করেঃ

অনেকে মিষ্টি স্বাদের জন্য কিশমিশকে ক্যান্ডির সাথে তুলনা করে ভুল করেন। তারা মনে করেন এটি দাঁত ও মুখের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কিশমিশ এ অলিনিলীক এসিড থাকে। এটি মুখের ভেতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম ব্যহত করে।

 

ওজন বাড়াতেঃ

কিশমিশের প্রচুর ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে। তাই এটি ওজন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যদি সঠিক নিয়মে ওজন বাড়াতে চান তবে আজই কিশমিশ খেতে পারেন।

 

মস্তিষ্কের জন্য উপকারীঃ

কিশমিশে থাকা বোরন মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। বোরন ধ্যান বাড়াতে সহায়ক। ফলে কাজে মনোযোগ বাড়ে। এটি বাচ্চাদের পড়াশোনায়ও মনোযোগী করে তুলতে পারে।

 

কিশমিশে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বিদ্যমান আছে। এতে এমন কোন ক্ষতিকর উপাদান নেয়, যার ফলে দেহের কোন ক্ষতি হতে পারে। তাই আপনারা নিশ্চিন্তে কিশমিশ খেতে পারেন।