যেসব নিয়ম মানলে মেদ কমবে

0
72

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়েট এবং শরীর চর্চার দিকে বেশিরভাগ মানুষের নজর থাকে। এসব নিয়মের সঙ্গে আরও কিছু কৌশল রপ্ত করতে পারলে মেদ ঝরানোর কাজ অনেকটা সহজ হয়।

 

কথায় বলে ‘চ্যারিটি বিগিনস এট হোম’। মেদ ঝরানোর অভ্যাসটাও অনেকটাই তাই, বাড়ি থেকেই শুরু হোক সেই পাঠ।

 

অন্যান্য কৌশলের মধ্যে খাওয়ার প্রবণতা কমানো অন্যতম। এই অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে অনেকটা ওজন কমবে। সেটা কিভাবে সম্ভব? রইলো তেমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি।

 

কাঁটা চামচ ও চামচ দুটো দিয়েই খাওয়া যায় এমন খাবারের জন্য কাঁটা চামচ ব্যবহার করুন। গঠনগত কারণে চামচের তুলনায় কাঁটা চামচে খাবার কম পরিমাণে ওঠে। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, কাঁটা চামচে খেলে কম পরিমাণে খাবার খাওয়া হয়।

খাবার আগে পানি খান। এতে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা থাকবেনা।

 

রেস্তোরাঁয় অর্ডার করার সময় বা বাড়িতে খাবার বাড়ার সময় অল্প করে নিন প্রথমে। তা শেষ হওয়ার পরেও খিদে থাকলে তবেই খান।

 

খাবারের প্লেটের আয়তন ছোট করুন। কম খাবার ধরে এমন প্লেটে খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই কম পরিমাণ খাবার খেতে পারবেন।

 

খাওয়ার শেষে ডেজার্ট খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। এতে ডেজার্ট শরীরের যা যা ক্ষতি করে তা থেকেও শরীর বাঁচবে আবার মিষ্টি থেকে হওয়া ফ্যাটও আটকানো যাবে।

 

অনেকক্ষণ খিদে চেপে রাখলে খাওয়ার সময় বেশি খেয়ে ফেলার সুযোগ থাকে। তাই ৩-৪ ঘন্টা অন্তর অন্তর অল্প অল্প করে খেয়ে পেট ভরিয়ে রাখুন।

 

রাতে আর স্নাক্স খাবেন না। ঘুমানোর ৩ ঘণ্টা আগেই খাওয়া সেরে ফেলুন। এতে শরীর হজম করার সুযোগ পাবে। ঘুম ভালো হলে শরীরে মেদ কম জমে এবং জমা মেদও ঝরতে সাহায্য করে।

খাবার কম খেতে হবে। তবে কখনো ভুলেও কোন বেলার খাবার বাদ দেবেন না। বরং খাবার বাদ দিলে আরো বেশি ওজন বাড়ে। কাজেই খেতে হবে এবং তা পরিমিত হারে।

 

অফিসের কাজ আজকাল বসে বসে হয় ,সেখানে শরীরের সচল হওয়ার জন্য খুব একটা সুযোগ নেই। তাই চেষ্টা করুন একটি আগের বাসস্টপে নেমে হেঁটে বাকি রাস্তা যান,  সিঁড়ি দিয়ে উঠুন। এর ফলে শরীর অনেকটা সক্রিয় হয়। মেদ জমার সুযোগই পাবে না।

প্রতিদিন সকালে ও সন্ধায় এক বাটি ভর্তি ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন। আর এগুলো আপনার রক্তের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পেটের চর্বি কমিয়ে আনবে সহজেই।

 

প্রচুর পানি পান করুন। প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করার ফলে এটা আপনার দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় ও রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রসাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বাড়ার ফলে দেহে চর্বি জমতে পারে না ও বাড়তি চর্বি ঝরে যায়।

 

মানসিক চাপের বোঝা বইবেন না। মানসিক চাপ যতটা পারবেন কম নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ মানসিক চাপের ফলে আপনার শরীরে নানা রকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে শরীরের পাচন ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে মেদ জমতে শুরু করে।

 

মাংস থেকে দূরে থাকুন। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে বেছে নিতে পারেন কম তেলে রান্না করা চিকেন।

 

চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না। মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার, কোলড্রিংস এবং তেলে ভাজা খাবার থেকে দূরে থাকুন। কেননা এ জাতীয় খাবারগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষত পেট ও ঊরুতে খুব দ্রুত চর্বি জমিয়ে ফেলে। তাই এগুলো খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান।

 

প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন খান। প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে দুই তিন কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নিন, এর ঠিক পরেই পান করুন লেবুর রস। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্বিগুন দ্রুতগতিতে কাজ করবে। তাছাড়া দেহের রক্ত চলাচল কে আরো বেশি সহজ করবে এটি। এক গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবু চেপে নিন, এতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। এবার পান করুন প্রতিদিন সকালে। চিনি দেবেন না। এটি আপনার দেহের বাড়তি মেদ ও চর্বি কমাতে সবচেয়ে ভালো উপায়।